যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর নিজের সুর অনেকটাই নরম করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটাররা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তার দলের প্রার্থীদের পছন্দ করেননি বলে মন্তব্য করলেও, নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য কাউকে দোষ দিতে চাননি তিনি। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সঙ্গে কাজ করার এবং সবকিছুতে ভেটো না দেয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নির্বাচনের রাতে পলিটিকোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভোটাররা (রিপাবলিকান) প্রার্থীদের পছন্দ করেননি। তবে তার দলের বড় ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের জন্য তিনি ‘কাউকে দোষ দিতে চান না’।
ট্রাম্প পলিটিকোকে বলেন, ‘আমি যদি ব্যালটে থাকতাম, তাহলে আমরা জিততাম। আমরা খুব সহজেই সব আসনে জিততাম।’
গত এক মাসে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ সময় সমাবেশে বারবার ভোটারদের এমনভাবে কল্পনা করতে বলেছেন, যেন ব্যালটে তার নামও রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের দিন ভোটাররা ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের ব্যাপকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইতোমধ্যেই কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। টেক্সাস ও কানসাসের মতো রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিতেও অপ্রত্যাশিত জয় পেয়েছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনে সিনেট, প্রতিনিধি পরিষদ ও প্রেসিডেন্টের পদ—তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে থাকা রিপাবলিকানদের ‘ট্রাইফেকটা’ ভাঙতে যাচ্ছে।
আর সিএনএনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদও নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ট্রাম্প বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা (আমাদের) প্রার্থীদের পছন্দ করেনি। এমনই কিছু একটা হয়েছে।’
কোন প্রার্থীরা যথেষ্ট শক্তিশালী ছিলেন না—এমন প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না। শুধু বলতে চাই, জানেন, সময়টা ছিল বেশ ঘটনাবহুল। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে সবকিছু দেখেছি এবং এ থেকে শিখেছি।’
এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অবশ্য নির্দিষ্ট কয়েকজন প্রার্থীর ওপর দায় চাপিয়েছিলেন। সিএনএনকে তিনি বলেন, ‘প্রার্থীর যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ’। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ব্যালটে থাকা অনেক প্রার্থীর পক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের নিজেদের চেয়েও ভালো প্রচার চালিয়েছেন।’
এর কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প নিজেও টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে দায়ী করেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অ্যাবট তার ‘রাজনৈতিক জীবনের শেষ ছয় মাসে আরআইএনও অর্থাৎ নামে রিপাবলিকান, কাজে অন্য কিছু হয়ে না গেলে’ তিনি হারতেন না।
এদিকে নির্বাচনের ফলাফল সত্ত্বেও প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, জনসন ‘ভালো কাজ’ করেছেন। রিপাবলিকান পার্টির নেতা হিসেবে জনসনের থাকা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সিদ্ধান্তটা তাকেই নিতে হবে। তবে তিনি একজন ভালো মানুষ।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও বলেছেন, অনেক ডেমোক্র্যাট তাকে ফোন করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের স্বার্থে কাজ এগিয়ে নিতে তার প্রশাসন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সহযোগিতা করবে।
পলিটিকোর সরাসরি সম্প্রচারে ফোন করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করব, যাতে আমাদের দেশের জন্য সবকিছু ভালোভাবে এগোয়। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
এসময় সংযত সুরে ট্রাম্প বলেন, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস থেকে তার টেবিলে আসা কোনো আইনে ভেটো দেয়ার অধিকার তার রয়েছে। তবে তিনি ‘দুই বছর ধরে বসে থেকে সবকিছুতে ভেটো দিতে চান না’। এর আগে ট্রাম্প এর বিপরীত অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এমনকি নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন।
পলিটিকোকে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ইতোমধ্যে ফোন করেছে এবং আমার সঙ্গে কাজ করতে চায়’। তবে কারা তাকে ফোন করেছেন, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত রিপাবলিকানদের বড় ধরনের নির্বাচনী ক্ষতির পেছনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। তবে নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, ইরানের কারণে তেলের দাম নিয়ে সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আমি পুরোপুরি নিশ্চিত যে, দীর্ঘমেয়াদে আমাদের দেশ, এমনকি বিশ্বেরও স্বার্থে ইরান নিয়ে আমার সিদ্ধান্ত একেবারেই সঠিক ছিল এবং এখনো সঠিক আছে।’