বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাংলাদেশ-জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই: নাহিদ ইসলাম বিদ্যুৎ খাতে লুটপাটের সুযোগ দিতেই দায়মুক্তির আইন করেছিল আ.লীগ: রিজভী বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর গোলাম পরওয়ারকে রক্ষা করতে গেলে জামায়াতকেও দায় নিতে হবে: রাশেদ খাঁন সব নির্বাচন একই মানে করতে চায় ইসি, নভেম্বরে সংলাপ হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে: পেন্টাগন যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধান সম্ভব: পেজেশকিয়ান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে শঙ্কায় নেইমারের বাকি মৌসুম ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দল কিনলেন অ্যান্ডারসন লজ্জার রেকর্ড গড়ে বিদায় আর্সেনালের আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে হোয়াটসঅ্যাপে ‘নো’ লিখলেই খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট!

সব নির্বাচন একই মানে করতে চায় ইসি, নভেম্বরে সংলাপ

অনলাইন ডেস্ক / ৩ জন দেখেছেন
আপডেট : October 28, 2026
সব নির্বাচন একই মানে করতে চায় ইসি, নভেম্বরে সংলাপ

শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে অনুষ্ঠানের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে ন্যূনতম মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে কমিশন। ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মানদণ্ড বজায় রাখার প্রত্যাশা তাঁর।

সিইসি বলেন, ‘শুধু একটি ভালো নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়, সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে।’ তাঁর মতে, একটি ভালো নির্বাচন আয়োজনের মধ্য দিয়ে কমিশনের দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং ধারাবাহিকভাবে ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা জরুরি।

নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে সিইসি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা খুবই দরকার। এ জন্য আমরা তাঁদের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই নভেম্বর মাসের মধ্যেই তাঁদের সঙ্গে বসব আমরা।’

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর ডাকযোগে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করাকেও কমিশনের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেন সিইসি। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসী ভোটার, দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কারাবন্দীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। কমিশন চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইসি জানান, ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে। আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হতে পারে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় এ ধরনের নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি দেখা গেছে। এ কারণে আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরেও ক্যামেরা থাকবে। নির্বাচনে অনিয়ম বা সহিংসতা ঘটলে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে তা ধারণ করা সম্ভব হবে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনাকে দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সিইসি। তাঁর ভাষ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর মূল্যায়নে দেখা যায়, কমিশন ও নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যাওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল।

আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভোটার তালিকা নির্ভুল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা মানুষের আস্থা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান সিইসি। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। কালো টাকা ব্যবহার বা ভোট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেলে আচরণবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসএসসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকবে না বলেও জানান তিনি।

নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি। তাঁর মতে, পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নিরুৎসাহ, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক প্রচারণা নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও সমাজের বিভিন্ন পক্ষকে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিতে হবে। জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোতে ২০৩০ সালের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য আইনে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সিইসি বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাঁরাও ভোটার হওয়ার সুযোগ পাবেন। আগে বছরের ১ জানুয়ারিকে বয়স গণনার ভিত্তি হিসেবে ধরা হলেও এবার নতুন সুযোগের ফলে আরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের ভূমিকার ওপরও গুরুত্ব দেন সিইসি। তিনি জানান, সাংবাদিকেরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র কমিশন থেকে এবং স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা দেবেন।

সিইসি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্রকে টেকসই করা সম্ভব নয়। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে কমিশন কাজ করবে। এ জন্য রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারসহ সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।


অন্যান্য সংবাদ