রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২ হাজার ৮৮ আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি: দেশের প্রায় ৪৭ শতাংশ পরিবার ঋণগ্রস্ত দুর্নীতির মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে সাতজনের মৃত্যু ফিটনেসবিহীন গাড়িতে প্রধানমন্ত্রীকে তুলে দিয়েছেন সালাহউদ্দিন: হাসনাত ক্ষমতায় বসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বিএনপি: জামায়াত আমির তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যানসার শনাক্তে স্ক্রিনিং চালুর উদ্যোগ উজবেকিস্তানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হুমায়ুন কবির পিস্তল হাতে ইশরাকের অভিযান নিয়ে রাশেদ খাঁনের ব্যাখ্যা ইশরাক ইস্যুতে আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা: ডিবিপ্রধান হুতিদের পাশে ইরান, মিলছে গোয়েন্দা সহায়তাও: প্রতিবেদন বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বে আর কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্ট আমলে জনগণের পাশে ছিলো ‘জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন’: রিজভী সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর ৭টি ইউনিটকে জাতীয় পতাকা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প : রুবিও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ১৭ জন দেখেছেন
আপডেট : October 18, 2026
রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছেন ট্রাম্প : রুবিও

রাশিয়ার ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ৬০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সময়ে বিশ্ব অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এসব পদক্ষেপের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

শনিবার সাংবাদিকদের রুবিও বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপ করলে বিশ্ব অর্থনীতি, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা বিশ্লেষণ করতে প্রেসিডেন্ট ৬০ দিনের সময় নিতে চান।’ তিনি উল্লেখ করেন, এসব অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের প্রভাব শুধু রাশিয়ার ওপর নয়, আরও কয়েকটি দেশের ওপরও পড়বে।

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাত জ্বালানির দামের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন রুবিও। এর মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে হামলার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

রুবিও বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংঘাতগুলো পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এর প্রভাব শুধু বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের দামেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।’

শনিবার রাতে ট্রাম্প বলেন, তার এ সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুফল বয়ে আনবে। তবে এ বিষয়ে তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি বুঝে নেব, আপনারাও জানতে পারবেন। এটি একটি খুব ভালো সিদ্ধান্ত। আমি মনে করি, এই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য ভালো হবে, এমনকি বিশ্বের জন্যও ভালো হবে।’

গত মাসে কংগ্রেসে পাস হওয়া রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ থেকে দেশটিকে অব্যাহতি দিয়ে গত শুক্রবার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন ট্রাম্প।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত স্থগিত করায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের আইনপ্রণেতারাই ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অথচ গত মাসেই কংগ্রেসে গৃহীত আইন অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞাগুলো চলতি মাসে কার্যকর হওয়ার কথা ছিল

সেপ্টেম্বরে পাস হওয়া এবং ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত ওই আইনে রাশিয়ার সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ধনকুবের এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার বিধান রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছিল।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সমর্থকদের অর্থের জোগান বন্ধ করা এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করাই ছিল এসব পদক্ষেপের অন্যতম উদ্দেশ্য।

কিন্তু আইনটি কার্যকর হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে, শুক্রবার রাতে ট্রাম্প রাশিয়াকে এসব অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের আওতামুক্ত করেন।

ট্রাম্পের নিয়মিত সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ পদক্ষেপকে ‘চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন। আগামী জানুয়ারিতে তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা রয়েছে।

টিলিস লিখেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট যদি সত্যিই জ্বালানির দাম কমাতে চান, তাহলে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি বিশেষ সুবিধা দেখানোর পরিবর্তে ইরান-সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারেন।’

টেক্সাসের জ্যেষ্ঠ রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজও ফক্স নিউজে দেওয়া মন্তব্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

ক্রেমলিনপ্রধান ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পর ট্রাম্প এই নির্বাহী আদেশ দেন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে ডিজেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। আগামী মাসে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও বাড়ছে।

জনমত জরিপগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আগামী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের নির্বাচনী বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির বিষয়ে রুবিও বলেন, ‘পুতিন যে ডিজেল বিক্রি করতে যাচ্ছিলেন, সেটি কোনো না কোনোভাবে বিশ্ববাজারে আসত। পার্থক্য শুধু এতটুকু—যুক্তরাষ্ট্র সেই ডিজেলের কতটা পেত।’

যুক্তরাষ্ট্রের সড়কপথে পণ্য পরিবহন, কৃষি ও নির্মাণ খাতে ডিজেলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে পারে।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ পুতিনকে পুরস্কৃত করার শামিল বলেও মন্তব্য করেন জেলেনস্কি।


অন্যান্য সংবাদ