ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এভারটনের বিপক্ষে ২-০ গোলের সহজ এক জয় নিয়ে হাইবারি স্টেডিয়ামে লিগ কাপের ম্যাচ খেলতে গিয়েছিল। কোচ মিকেল আরতেতা প্রথম একাদশে একেবারে ৯টি বড় পরিবর্তন আনেন। তবে চতুর্থ সারির এই ক্লাবের কাছেই ধরাশায়ী হতে হলো গানারদের।
টাইব্রেকারে চতুর্থ ইংলিশ লিগের চতুর্থ সারির ক্লাব ফ্লিটউড টাউনের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলে হেরে আর্সেনালের ইএফএল কাপ (লিগ কাপ) অভিযান শেষ হলো।
এই ম্যাচে ব্যাকআপ গোলকিপার ইলান মেসলিয়েরকে ক্লাবের হয়ে অভিষেক করানোর সুযোগ দেন আর্সেনাল কোচ আরতেতা। কিন্তু এই জুয়া শেষ পর্যন্ত উল্টো বুমেরাং হয়। চতুর্থ সারির ক্লাব ফ্লিটউড টুর্নামেন্টের ইতিহাসে প্রথম লিগ টু ক্লাব হিসেবে বর্তমান ইংল্যান্ডের শীর্ষ লিগ চ্যাম্পিয়নদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেওয়ার রেকর্ড গড়ে।
এর মাধ্যমে ২০১২-১৩ মৌসুমে ব্র্যাডফোর্ড সিটির কাছে টাইব্রেকারে সেই অনাকাঙ্ক্ষিত হারের পর, চতুর্থ সারির কোনো ক্লাবের কাছে আর্সেনালের লিগ কাপ থেকে বিদায় নেওয়ার এটি মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা।
আর্সেনালই প্রথম কোনো বর্তমান প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন দল, যারা চতুর্থ সারির কোনো দলের কাছে লিগ কাপ থেকে বিদায় নিল। এর আগে ২০১২-১৩ মৌসুমে ব্র্যাডফোর্ডের কাছে বাদ পড়ার স্মৃতিও ছিল সেই টাইব্রেকারের মাধ্যমেই।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য এক অদ্ভুত বিঘ্ন ঘটে। খেলা শুরুর মাত্র এক মিনিট পেরোতেই স্টেডিয়ামের ওপর একটি ড্রোন উড়তে থাকায় রেফারি খেলা আট মিনিটের বেশি সময় বন্ধ রাখতে বাধ্য হন।
খেলা পুনরায় শুরু হওয়ার পর, ২১ মিনিটে স্বাগতিকরা তাদের দুর্দান্ত প্রতিপক্ষকে তাক লাগিয়ে দেয়। ফুলহ্যাম থেকে ধারে খেলা অ্যারন লুপালো-বি তরুণ ডিফেন্ডার মার্লি সলমনের ভুলের সুযোগ নিয়ে দারুণ এক শটে মেসলিয়েরকে পরাস্ত করে ফ্লিটউডকে এগিয়ে নেন।
বিরতির সময় আরতেতা মাঠে নামান দলের দুই অভিজ্ঞ তারকা মার্টিন ওডেগার্ড ও বেন হোয়াইটকে, আর এই পরিবর্তনের সুফলও মিলল হাতেনাতে।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরুর মাত্র পাঁচ মিনিটের মাথায় কেডাচ ও’নেলের চমৎকার ক্রস থেকে বল জালে জড়িয়ে সমতা ফেরান ভিক্টর গ্যায়কেরেস।
বাকি সময়ে বলের দখল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও, গানার্সরা আর জয়সূচক গোলের দেখা পায়নি। উল্টো ৮৫ মিনিটে হ্যারিসন নীলকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ১৬ বছর বয়সি বিস্ময়কর প্রতিভা ম্যাক্স ডোভান, যা আর্সেনালের কাজটিকে আরও কঠিন করে তোলে।
১-১ গোলে ম্যাচ ড্র হওয়ায় খেলা গড়ায় সরাসরি টাইব্রেকারে। সেখানে ব্রুনো গুইমারাসের শট ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার জে লিচ এবং পরবর্তীতে কোনর হৌঘি জয়সূচক পেনাল্টিটি সফলভাবে জালে জড়ালে এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে ফ্লিটউড টাউন।