উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের অভিষেক মৌসুমেই রূপকথার জন্ম দিলো ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। ফরাসি ক্লাব লঁসের মাঠে রীতিমতো ঝড় তুলেছে সেস ফাব্রেগাসের শিষ্যরা। স্বাগতিকদের ৯-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে ইউরোপিয়ান ফুটবলের রেকর্ডবুক ওলটপালট করে দিয়েছে নবাগত এই ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়া কোমো প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয়। বিরতির পর লঁসের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে এবং একের পর এক গোল উৎসবে মেতে ওঠে ইতালিয়ান ক্লাবটি। কোমোর ঐতিহাসিক এই জয়ে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করেন আনাস্তাসিওস দুভিকাস।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো দল প্রতিপক্ষের মাঠে এক ম্যাচে ৯ গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়ল। এর আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক ম্যাচে ৯ গোল করার একমাত্র রেকর্ডটি ছিল বায়ার্ন মিউনিখের, ২০২৪ সালে দিনামো জাগরেবের বিপক্ষে ৯-২ গোলে জিতেছিল জার্মান ক্লাবটি। তবে সেই ম্যাচটি বায়ার্ন খেলেছিল নিজেদের মাঠে। ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচে ৯ গোল করার দিক থেকে সম্পূর্ণ নতুন ইতিহাস গড়ল কোমো।
পাশাপাশি ইউরোপসেরার প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডেও ভাগ বসাল ক্লাবটি। এর আগে ২০১৭ সালে বেসিকতাসের বিপক্ষে লিভারপুল এবং ২০১৫ সালে মালমোর বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ ৮-০ গোলে জিতেছিল। কোমো লঁসকে ৯-১ গোলে হারিয়ে আট গোলের ব্যবধানে জয়ের সেই রেকর্ড স্পর্শ করল। তবে আগের দুটি বড় জয়ই ছিল স্বাগতিক হিসেবে নিজেদের মাঠে।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটে গ্রিক ফরোয়ার্ড আনাস্তাসিওস দুভিকাসের গোলেই শুরু হয় কোমোর গোল উৎসব। এরপর ৩২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং ৫৭ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এই হ্যাটট্রিকের সুবাদে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোল করা তৃতীয় গ্রিক ফুটবলার হলেন দুভিকাস। চলতি মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে চার ম্যাচে ছয় গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকাতেও এখন শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি।
কোমোর পক্ষে বাকি গোলগুলো করেন— নিকো পাজ, লুকাস দা কুনহা, মার্ক-অলিভার কেম্পফ, মাত্তিয়া লিবারালি, মার্টিন বাতুরিনা এবং পাপাচ্চিওলি। অন্যদিকে, লঁসের হয়ে একমাত্র গোলটি শোধ করেন আগুইলার। এই হারের মাধ্যমে ফরাসি ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের লজ্জাও যুক্ত হলো।
প্রায় ১২০ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছে কোমো। তবে নবাগত হিসেবে মাঠে নেমেই ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের বিপক্ষে রীতিমতো চমক দেখাচ্ছে সেস ফাব্রেগাসের দল। অভিষেক ম্যাচে লিপজিগকে ৪-১ গোলে হারানোর পর, ফেইনুর্ডের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ৪-১ গোলে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর, এবার লঁসের মাঠে ৯ গোলের এই ঐতিহাসিক জয় তুলে নিল ইতালিয়ান ক্লাবটি।