মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল বড় ধাক্কা খেয়েছে। রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় এবং কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইরান যুদ্ধের ভয়াবহতা কমে আসার আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম গত অগাস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
অর্থনৈতিক সংবাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ০.৮৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩.৭৫ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১.৩৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮৬.৮২ ডলারে। এর আগের সেশনেই দুটি আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কেই ৮ শতাংশের বেশি বিশাল দরপতন ঘটেছিল, যা গত ৩১ অগাস্টের পর সর্বনিম্ন অবস্থান।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতা হারানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হওয়ায় ট্রাম্পের এককভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সংকুচিত হবে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি প্রয়োগের বদলে তেহরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তি বা সমঝোতায় আসার প্রবণতা বাড়বে বলে আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
পারস্য উপসাগর ও ইরান ঘিরে যুদ্ধের চরম ঝুঁকি কমে আসার এই প্রত্যাশাই মূলত তেলের বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, মার্কিন নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের ফলেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের এই ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে।
এদিকে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে আগামী নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পত্র অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫, পেট্রোল ১৬০ ও কেরোসিন ১৫৫ টাকায় বিক্রি হবে।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে সরকার। সে সময় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ থেকে বাড়িয়ে ১৬৫, পেট্রোল ১৪০ থেকে বাড়িয়ে ১৬০ এবং কেরোসিন ১৩৫ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।