রাজধানীর বিমানবন্দর ও কদমতলী এলাকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে কাউলায় কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই আরোহীসহ এবং পোস্তগোলায় দুই ট্রাকের বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতায় চাপা পড়ে দুই অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় আরও একজন সিএনজিচালক গুরুতর আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোর ও সকালে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাইয়ুম জানান, সকালে বিমানবন্দরের কাউলা এলাকায় দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী দুইজন মারা যায় ।
তাদের মধ্যে ফালু মিয়া (৫৫) ঘটনাস্থলেই ও আরিফুর রহমানকে (৪০) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত আরিফুর রহমানের চাচাতো ভাই মনির জানান, আরিফ পোস্তগোলার একটি পুরোনো লোহা কেনাবেচার (ভাঙারি) দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন।
সকালে আরিফ ও ফালু মিয়া মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সময় কাউলা এলাকায় পৌছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তারা মারা যায়।
অন্যদিকে, কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, ভোরের দিকে পোস্তগোলা গোলচত্বর এলাকায় দুটি ট্রাকের ধাক্কায় দুই অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার আরও এক চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। তার নাম সুভাষ চন্দ্র (৩৬)। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতরা হলেন- অটোরিকশাচালক জাকির হোসেন (৫৫) ও জাহাঙ্গীর পোদ্দার (৫০)।
নিহত জাকির হোসেনের ছেলে মো. মাহিন হোসেন জানান, পোস্তগোলা গোলচত্বরের সিএনজি স্টেশনের সামনে দুটি ট্রাক বেপরোয়া গতিতে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছিল। এ সময় ট্রাক দুটি পৃথক দুটি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে দুই চালক ছিটকে পাশের খাদে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ থানার রসুলপুর গ্রামে। তিনি পরিবার নিয়ে রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীর পোদ্দারের বাড়ি পটুয়াখালী সদর এলাকায়। তিনিও পরিবার নিয়ে কদমতলীতে বসবাস করতেন বলে জানান তার স্ত্রী হাওয়া বেগম।