২৩তম ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারে চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় মাহমুদা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র পরিচালনায় মেজবাউর রহমান সুমনকে সম্মানিত করা হয়েছে। ২০০৪ সালে কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন প্রবর্তিত এই পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র পরিচালনা ও সাংবাদিকতায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর দেওয়া হয়।
চলচ্চিত্র পরিচালনা ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে ‘২৩তম ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার-২০২৬’। এবারের আয়োজনে চলচ্চিত্র সাংবাদিকতা বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন মাহমুদা চৌধুরী এবং চলচ্চিত্র পরিচালনা বিভাগে সম্মানিত হয়েছেন হাওয়া খ্যাত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন।
প্রয়াত চলচ্চিত্রকার ও সাংবাদিক ফজলুল হকের স্মৃতি রক্ষার্থে প্রবর্তিত এই পুরস্কার দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানের শুরুতে ফজলুল হককে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এ সময় স্মরণ করা হয় প্রয়াত শিশুসাহিত্যিক আমিরুল ইসলামকেও।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফজলুল হক স্মৃতি কমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আনন্দ আলো সম্পাদক রেজানুর রহমান ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের নিয়ে একটি ক্লাব গঠনের প্রস্তাব দেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চলচ্চিত্র পরিচালক হাবিবুল ইসলাম হাবিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির (বাচসাস) সাবেক সভাপতি ও কবি রাজু আলীম।
চলচ্চিত্র পরিচালক মতিন রহমান তার বক্তব্যে ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারপ্রাপ্তদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী নতুনদের পাশে দাঁড়ান এবং তাদের এগিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।
চলচ্চিত্র প্রযোজক হাবিবুর রহমান খান বলেন, তারা ফজলুল হকের দেখানো পথেই এগিয়ে চলেছেন। সিনেমার প্রতি ফজলুল হকের যে গভীর ভালোবাসা ছিল, তার পুত্র ফরিদুর রেজা সাগর সেই ভালোবাসা ও ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মাহমুদা চৌধুরী বলেন, অনুষ্ঠানে সবার আনন্দ দেখে তিনিও অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণের এই মুহূর্ত তার কাছে আনন্দের ও ভালো লাগার।
অন্যদিকে, চলচ্চিত্র পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন তার চলচ্চিত্র ‘রইদ’ প্রসঙ্গে জানান, সিনেমাটি নির্মাণের অনুপ্রেরণা এসেছে তার মায়ের গল্প থেকে। এসময় তার মা উপস্থিত ছিলেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক গল্পের সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাণের সংযোগ তার এই বক্তব্যে উঠে আসে।
ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কারের প্রবর্তক বাংলাদেশের কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন। তিনি ছিলেন প্রয়াত ফজলুল হকের সহধর্মিণী। ২০০৪ সালে তার উদ্যোগে এই পুরস্কারের যাত্রা শুরু হয়। চলচ্চিত্র পরিচালনা ও চলচ্চিত্র সাংবাদিকতায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মানিত করার পাশাপাশি ফজলুল হকের কর্ম ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
প্রতিবছর এই পুরস্কার প্রদানের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত গুণীজনদের স্বীকৃতি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৃজনশীল চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করা হয়।