নতুন পরিস্থিতিতে ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানাচ্ছেন দেশটির সাধারণ মানুষ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) তেহরানের জুমার নামাজের ভারপ্রাপ্ত খতিব জাভাদ হাজ আলি আকবারি এ কথা জানিয়েছেন। খবর মেহেরের
তেহরানে জুমার নামাজের খুতবায় বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার আহ্বাবনের বিষয়ে সতর্ক করেন তিনি। বলেন, ‘চিঠি পাঠানো বা মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতির কারণে ইরানের অসতর্ক হয়ে পড়া উচিত নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, আমেরিকানরা যখন আলোচনার কথা বলে বা বার্তা পাঠায়, তখন অনেক সময় তারা সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দেয়ার চেয়েও বড় কোনো বিপদ বা ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা করে থাকে।’
ইরানের পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি কোনো তাড়াহুড়ো বা আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি জাতীয় পরিপক্কতা ও সচেতনতার ফসল।’
ইরানের প্রতিপক্ষরা দেশটির সব ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় সীমা অতিক্রম করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ তার ঘনিষ্ঠদের হত্যা করেছে এবং নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ও চুক্তিগুলো রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
এই ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘প্রতিপক্ষের আচরণের কারণে বছরের পর বছর ধরে ইরানি জনগণ অত্যন্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। এখন তারা আরও বেশি সচেতনতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে, যা মূলত জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং প্রতিপক্ষকে নিবৃত্ত করার একটি উপায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই দাবির মূলে রয়েছে মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য ইরানি জাতির অধিকার বলে জানান আলি আকবারি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি পুরো জাতির ইচ্ছার প্রতিফলন; একে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।’
অতীতে পরিচালিত কিছু জরিপে ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ পারমাণবিক নীতি পুনর্বিবেচনার পক্ষে মত দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিষয়টিকে একটি ‘জাতীয় দাবি’ হিসেবে অভিহিত করে হাজ আলি আকবারি শিক্ষাবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন এবং নিজেদের প্রস্তাব ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আরও মূল্যায়ন পরিচালনার আহ্বান জানান, যাতে এর থেকে প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলো ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনির কাছে পেশ করা যায়।