হ্যারি কেইনের পেনাল্টিতে জয়ের পথেই ছিল বায়ার্ন মিউনিখ। তবে শেষ আট মিনিটে ডেকলান রাইসের গোলে ম্যাচে ফেরে আর্সেনাল। দুই দলের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা লড়াই শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে শেষ হয়েছে।
বুধবার রাতে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্ন ও আর্সেনালের চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচটি শেষ হয়েছে ২-২ সমতায়। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১২ ম্যাচে মাত্র দ্বিতীয়বার পয়েন্ট হারাল গানাররা।
পুরো ম্যাচে ৪৬ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে ১৩টি শট নেয় বায়ার্ন, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। ৫৪ শতাংশ বল দখলে রাখা আর্সেনাল নিয়েছে ১৪টি শট, লক্ষ্যে ছিল বায়ার্নের সমান পাঁচটি।
শুরুতেই চোটের ধাক্কা খায় আর্সেনাল। ম্যাচের দশম মিনিটে ঊরুতে অস্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়েন বুকায়ো সাকা। তার বদলি হিসেবে নামা এবেরেচি এজেই দলকে এগিয়ে দেন। ২৫তম মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের বাড়ানো বল ধরে নিখুঁত শটে ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত করেন তিনি। শুরুতে অফসাইডের সিদ্ধান্ত হলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনায় গোল পায় আর্সেনাল।
৩৫তম মিনিটে সমতায় ফেরে বায়ার্ন। মাঝমাঠ থেকে দুর্দান্ত পাসে আলফোনসো ডেভিসকে খুঁজে নেন কেইন। বল নিয়ে আর্সেনালের রক্ষণ ভেঙে ডেভিড রায়াকে পরাস্ত করেন কানাডিয়ান উইঙ্গার।
বিরতির পর দুই দলই আক্রমণে ধার বাড়ায়। বায়ার্নের গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার ব্রুনো গিমারেসের হেড ঠেকিয়ে দেন ক্রসবারে। অন্য প্রান্তে দাইয়ো উপামেকানোর প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন রায়া।
৬১তম মিনিটে আবার এগিয়ে যায় বায়ার্ন। জুরিয়েন টিম্বারের হাতে কেইনের শট লাগলে পেনাল্টি দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। আর্সেনালের বিপক্ষে এটি তার ২৩ ম্যাচে ১৬তম গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১০ ম্যাচে গোল করার কীর্তিও গড়েন তিনি। টানা ১১ ম্যাচে গোলের রেকর্ড ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর।
কেইনের গোলের পর জয়ের পথেই ছিল বায়ার্ন। কিন্তু শেষ আট মিনিটে বদলি হিসেবে নামা ভিক্টর ইয়োকেরেসের পাস পেয়ে নিচু শটে নয়্যারকে পরাস্ত করেন রাইস। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
চ্যাম্পিয়নস লিগে এই নিয়ে টানা দুই ম্যাচে ড্র করল বায়ার্ন। তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে টেবিলের ১৪ নম্বরে। সমান ম্যাচে দুই জয় এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট পাওয়া আর্সেনালের অবস্থান সপ্তম স্থানে।
রাতের অন্য ম্যাচে আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এ ছাড়া গালাতাসারাই ৪-২ গোলে লিলকে, অ্যাস্টন ভিলা ৩-১ গোলে ভাইকিংকে এবং লাস্ক ৩-২ গোলে স্পোর্তিংকে হারিয়েছে। ইন্টার মিলান ১-০ গোলে শাখতার দোনেৎস্ককে এবং রিয়াল বেতিস ১-০ গোলে ফেইনুর্ডকে হারিয়েছে।