সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সামনে আর নতুন সরকার গঠনের সুযোগ নেই বলে মনে করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ। সরকার গঠন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যেই এ মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হয়েছে ইসরায়েলে। নির্বাচনের পর ভোট গণনায় দেখা গেছে, ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ (KAN) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে যে, ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ১২০ সদস্যের নেসেটে (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ জোট ৫৩টি আসন, বিরোধী ‘চেঞ্জ’ (পরিবর্তন) জোট ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেয়েছে। ইয়াইর লাপিদ আছেন বিরোধী জোটে।
প্রধান দুই জোটের কোনোটিই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন অর্জন করতে পারেনি। যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে ৪ নভেম্বর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা এবং প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হেরজগের কাছে তা হস্তান্তরের কথা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর প্রাপ্ত ৫৩টি আসনের দিকে ইঙ্গিত করে ইয়ার লাপিদ গতকাল (শুক্রবার) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “এটুকুই তার সম্বল। তিনি যা-ই চেষ্টা করুন না কেন, তার সামনে সরকার গঠনের কোনো উপায় নেই।”
বিদায়ী নেসেটে প্রধানমন্ত্রীর জোটের ৬৮টি আসন ছিল উল্লেখ করে বর্তমান ফলাফলকে নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় বিপর্যয় বলেও এক্সপোস্টে উল্লেখ করেছেন তিনি।
লাপিদ ৭৭.৭ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির কথাও তুলে ধরেছেন, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। তিনি বিরোধী জোটের এই অর্জনকে ‘নকআউট’ জয় না বলে ‘পয়েন্টের ভিত্তিতে জয়’ (অর্থাৎ সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকা) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
অবশ্য বর্তমানে ইসরায়েল যে অচলাবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, তা-ও স্বীকার করেছেন লাপিদ। শুক্রবারের পোস্টে তিনি বলেছেন, “এখন সবচেয়ে কঠিন কাজটি সামনে—সরকার গঠনের চেষ্টা করা।”
নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনার পার্থক্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “সরকার গঠন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি ক্যামেরার আড়ালে, ছোট কোনো কক্ষে, ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়।”
লাপিদ তার সমর্থকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এটি কঠিন হবে। আমি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।”
ইসরায়েলি দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনথের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার কট্টর ডানপন্থী দল জিউইশ পাওয়ারের নেতা ইতামার বেন-গভির প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে ডানপন্থী সরকার টিকিয়ে রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জিউইশ পাওয়ার জানিয়েছে, আরব দলগুলোর সমর্থনে একটি ‘বামপন্থী সরকার’ গঠন ঠেকানো নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, ‘ডেমোক্র্যাটস’ দলের নেতা ইয়ার গোলান ‘চেঞ্জ’ জোটের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন—যেন তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করেন। একটি বিকল্প সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, বৃহস্পতিবার গোলান ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা রা’আম পার্টির শীর্ষ নেতা মানসুর আব্বাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এর আগে তিনি ভবিষ্যতে গঠিত হতে যাওয়া জোটে রা’আম-কে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন; অন্যদিকে, ‘ইসরায়েল বেইতেইনু’ দলের নেতা আভিগদোর লিবারম্যান এমন কোনো জোট সরকার গঠনের বিরোধী, যেখানে আরব দলগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে।
‘চেঞ্জ ব্লক’ (পরিবর্তন জোট) এবং আরব দলগুলোর হাতে মোট ৬৭টি আসন রয়েছে, যা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট।
তবে, আরব দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চেঞ্জ ব্লকের অংশ নয়। এছাড়া, তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করার বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতাদের মধ্যকার মতপার্থক্য নেতানিয়াহু-বিহীন সরকার গঠনের পথে একটি বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।