নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে আগামীকাল সোমবার থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। দুই ও চার যাত্রী ধারণক্ষমতার এসব যানবাহনের জন্য নিবন্ধন ফি, নবায়ন ফি ও সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করেছে সরকার।
রোববার (১ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। অন্যদিকে, চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ই-রিকশার গতিসীমা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার স্থাপন করতে হবে। এসব যানবাহনের অনুমোদিত সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে চলাচলরত রিকশার মালিকদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বৈধ কিংবা অবৈধ- সব রিকশাই আপাতত চলাচল করতে পারবে। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া কোনো ই-রিকশা সড়কে চলতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকার বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে যেকোনো এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (ইকোনমিক লাইফ) হবে ১২ বছর। সোমবার থেকে ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে এবং পর্যায়ক্রমে তা চলবে।’
বর্তমানে চলাচলরত রিকশাগুলো এখনই বন্ধ করা হবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ই-রিকশার ব্যাটারি নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন থেকেই চার্জ করতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ই-রিকশার ব্যাটারি ভাঙা যাবে না।’
ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক চলাচল ব্যবস্থা, নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ এবং যানবাহনের জন্য আলাদা রং চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান মীর শাহে আলম।