বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট বয়সের চেয়ে মানসিক পরিপক্বতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ঢালিউড অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। সংসার করার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, বুদ্ধিমত্তা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া। নিজের বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। সম্প্রতি দেশের একটি দৈনিক পত্রিকার সাক্ষাৎকারে বিয়ে ও জীবনসঙ্গী নির্বাচন নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান নুসরাত ফারিয়া। তার মতে, জীবনের একটি পর্যায়ে এসে যখন মনে হবে থিতু হওয়া প্রয়োজন, তখনই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি। সেই মানসিক প্রস্তুতি শিগগিরই চলে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী।
বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট বয়সের ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নুসরাত বলেন, বয়সের চেয়ে নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই পরিপক্বতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একা থাকা সহজ হলেও সংসার করতে বিশেষ বুদ্ধিমত্তা, ধৈর্য ও বোঝাপড়ার প্রয়োজন হয়। জীবনসঙ্গী নির্বাচনের আগে মানুষটিকে ভালোভাবে চেনা এবং নিজের অহংবোধ নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি। বিয়ের পর নতুন কোনো লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা হলে জীবনসঙ্গীকে সঙ্গে নিয়েই এগোতে চান নুসরাত। অর্থাৎ, তার কাছে বিয়ে মানে নিজের স্বপ্ন থামিয়ে দেয়া নয় বরং সঙ্গীকে পাশে নিয়ে নতুনভাবে পথচলা।
জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন নুসরাত? অভিনেত্রীর উত্তর, বন্ধুত্ব। তার মতে, দুজন মানুষের একে অপরকে ভালো লাগতে হবে, একসঙ্গে সময় কাটিয়ে আনন্দ পেতে হবে। ভালোবাসার পাশাপাশি পারস্পরিক ভালো লাগা ও বন্ধুত্বও থাকতে হবে। নুসরাতের ভাষ্যে, জীবনে অনেক কিছু বদলে যাবে, সন্তান বড় হয়ে নিজের পথে চলে যাবে, দিন শেষে দুজন মানুষই একসঙ্গে থাকবেন। তাই এমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেয়া জরুরি, যার সঙ্গে সারা জীবন কাটাতে ভালো লাগবে।
তারকাদের বিচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক আলোচনা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়েও নিজের মত জানিয়েছেন নুসরাত ফারিয়া। তার মতে, একসময় সমাজ কী বলবে, সেই ভয়ে অনেকে অসুখী সম্পর্কেও থেকে যেতেন। এর প্রভাব পড়ত তাদের নিজেদের পাশাপাশি সন্তানদের ওপরও। এখন মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলছেন, পরামর্শ নিচ্ছেন এবং সম্পর্কের সমস্যাগুলো বুঝতে শিখছেন বলে মনে করেন অভিনেত্রী। দুজন মানুষ একসঙ্গে সুখী না হলে শুধু লোকের কথার ভয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
তবে মতের অমিল এবং কারও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া এক বিষয় নয় বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। অন্যের ক্ষতি না করে দুজন মানুষের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সমাজেরও সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করা উচিত।
দঅভিনেত্রীর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তাঁর কাছে বিয়ে কেবল সামাজিক নিয়ম মেনে নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বরং মানসিক প্রস্তুতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও একসঙ্গে জীবন কাটানোর ইচ্ছাই একটি সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত।