নবীনগরে ইউপি নির্বাচন ঈদের পর তৃতীয় ধাপে? একসঙ্গে ভোট হতে পারে ২১ ইউনিয়নে
অভিজিত বনিক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে—এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে সারা দেশে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করায় নবীনগরেও নির্বাচনী আমেজ তৈরি হতে শুরু করেছে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি। দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, প্রথম ধাপের নির্বাচনী তফসিল আগামী ১০ ডিসেম্বর ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। সাধারণত ভোটগ্রহণের প্রায় ৪২ থেকে ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তবে কোন উপজেলার কোন ইউনিয়ন কোন ধাপে পড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নবীনগর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য তৃতীয় ধাপের তালিকায় নবীনগর উপজেলার ইউনিয়নগুলোর নামও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সূত্রগুলোর দাবি, এবার নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে পারে।
এ ছাড়া আগামী ২৮ নভেম্বর নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ফলে নভেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন কমিশনের সময়সূচি নির্ধারণী বৈঠকে নবীনগরের নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ২৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে শেষ হবে। ফলে এর পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ একই সময়ে শেষ হওয়ার বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের সামনে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।
এ পরিস্থিতিতে নবীনগর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন তৃতীয় ধাপে আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে মোটামুটি একটি সম্ভাব্য সময়সীমা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে এ সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। অর্থাৎ নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে নানা জটিলতা ও অনিশ্চয়তা থাকলেও নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিকতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে যায়, সেটিও নির্বাচন আয়োজনের সময়সূচি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এখন নবীনগরের সম্ভাব্য প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের অপেক্ষা নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং চূড়ান্ত তফসিলের।