ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় আবারও বিক্ষোভ শুরু করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। রোববার সকাল থেকে শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অবরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ সময় কোনাবাড়ীতে পুলিশ বক্সে আগুন দেয়া হয়েছে। মৌচাকে পুলিশ বক্স ভাঙচুর এবং চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পাঁচ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর বাজার, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। এ সময় তারা বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় পাঁচ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূইয়া। প্রয়োজনে বিজিবি সদস্যের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।
কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেতন বাড়ানোর দাবিতে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা বিক্ষোভ করছেন। শনিবার রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ ও আনসার একাডেমির ৩ নম্বর ফটক এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন শ্রমিকেরা। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ওই মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রোববার সকালে কালিয়াকৈরের রতনপুর এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। কারখানায় হাজিরা দেওয়ার পর তারা বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের আন্দোলনের কারণে আশপাশের বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
পরে শত শত শ্রমিক লাঠিসোঁটা হাতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের অবরোধে চান্দনা চৌরাস্তা বাইপাস থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। মহাসড়কের দুপাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত পথচারী ও যানবাহনের যাত্রীরা।
সকাল ১০টার দিকে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে থাকা দুটি পুলিশ বক্সে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশ বক্সের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বাইরে এনে সেগুলোতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ট্রাফিক আশরাফুল আলম বলেন, কোনাবাড়ী এলাকায় মহাসড়কের মাঝখানে থাকা পুলিশ বক্সে আগুন দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ বক্সের মালামাল বাইরে বের করে সেগুলোতেও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।
নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আলী খান বলেন, শ্রমিকরা চন্দ্রা থেকে কোনাবাড়ী পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে আসেন। পরে তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কোনাবাড়ী, কাশিমপুর ও কালিয়াকৈর এলাকায় প্রায় ১৮টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।