বিগত ১৬-১৭ বছরে সংবাদপত্রের প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে এবং প্রতিটি বাক্যের দুটি কমার মাঝখানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ভালোভাবে বুঝতে হলে জুলাই-পূর্ববর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়েও যথেষ্ট কাজ ও গবেষণা করা দরকার। গত ১৬ বছর মানুষকে যেভাবে অবদমিত করে রাখা হয়েছিল এবং কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছিল, তা উল্টে দিতে হলে কেবল রাজনীতি নয়, একটি বড় সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটাতে হবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আয়োজনে ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদারদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছরে সংবাদপত্রের কলামের ভাঁজে ভাঁজে, প্রতি অক্ষরে অক্ষরে এবং প্রতিটি বাক্যের দুটি কমার মাঝখানে আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। সংবাদপত্রের প্রতিটি বাক্যে কমার ভাঁজে ভাঁজে ফ্যাসিবাদের কথাগুলো ঢুকিয়ে দেওয়া হতো। তাই এসব বিষয়ের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, বিগত ১৬-১৭ বছরের সেই পরিস্থিতি না বুঝলে জুলাই আন্দোলনে কারা আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল এবং কারা একে-৪৭ দিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের হত্যা করেছিল, তাদের সঠিকভাবে চেনা যাবে না। সে ক্ষেত্রে আমরা কেবল তিন-চারজন মানুষকে চিনবো, যাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) সমন পাঠিয়েছে এবং যাদের বিচার হচ্ছে।
নাৎসি জার্মানির উদাহরণ টেনে শফিকুল আলম বলেন, একটি হিটলারকে কেবল কয়েকজন এসএস অফিসার বা নাৎসি পার্টির দুই-তিনজন নেতা তৈরি করেননি। হিটলার তৈরির পেছনে ছিল সম্মতি উৎপাদনের এক বিশাল কারখানা। তাদেরও চেনা ও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ বছর মানুষকে যেভাবে অবদমিত করে রাখা হয়েছিল এবং কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছিল- তা উল্টে দিতে হলে কেবল রাজনীতি নয়, একটি বড় সাংস্কৃতিক বিপ্লব ঘটাতে হবে। রাজনৈতিক বিষয়গুলো সংসদ কিংবা রাজপথে মীমাংসা হলেও ফ্যাসিবাদ যেন আর কখনো বাংলাদেশে শেকড় গাড়তে না পারে, সে জন্য রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
শফিকুল আলম বলেন, শিল্পের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লব ও দ্বিতীয় স্বাধীনতার মূল আকাঙ্ক্ষা দেশের প্রতিটি গ্রামে ছড়িয়ে দিতে হবে। ফ্যাসিবাদের কালচার যেন চিরতরে দূর হয় এবং এই অর্জন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অর্থবহ হয়ে থাকে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম প্রমুখ।