ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে যখন ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকল্পনাকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল ব্রেট সিলভিয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সামরিক কৌশল, পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এই জেনারেলের বিদায়ের আনুষ্ঠানিক কারণ জানায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
এমন সময়ে এই পরিবর্তন ঘটল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন। তবে সিলভিয়ার অপসারণের সঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত সামরিক পরিকল্পনার সরাসরি কোনো যোগসূত্র নিশ্চিত করা হয়নি।
সিলভিয়া জয়েন্ট স্টাফের ‘জে-৫’ (J-5) নামে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগটির দায়িত্বে ছিলেন। এই বিভাগ সামরিক কৌশল প্রণয়ন, যুদ্ধের পরিকল্পনা তৈরি এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক নীতির বিষয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে পরামর্শ দেওয়ার কাজে যুক্ত।
এর আগে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর ১০১তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সিলভিয়াকে কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা-ও তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
জয়েন্ট স্টাফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান, জয়েন্ট স্টাফ ও জয়েন্ট ফোর্স সিলভিয়া এবং তাঁর পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীতে ৩২ বছর সেবার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
মুখপাত্র আরও বলেন, সিলভিয়া ও তাঁর পরিবারের ভবিষ্যৎ জীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য শুভকামনা জানানো হচ্ছে।
সিলভিয়ার আগে এই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ ম্যাকগি। তাঁকেও গত বছর অবসরে যেতে হয়েছিল।
ফলে হেগসেথের দায়িত্বকালে জয়েন্ট স্টাফের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে দ্বিতীয়বারের মতো শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন এলো। সামরিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক রদবদল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
হেগসেথ এর আগে জেনারেল ও অ্যাডমিরাল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পদসংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, সামরিক নেতৃত্বের কাঠামো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে সিলভিয়ার অপসারণের নির্দিষ্ট কারণ হিসেবে এসব বিষয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সিলভিয়াকে সরানোর ঘটনা এমন সময়ে ঘটেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।
জয়েন্ট স্টাফের জে-৫ বিভাগ আন্তর্জাতিক সামরিক পরিকল্পনা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সে কারণে এই বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তার আকস্মিক বিদায় এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইরানকে ঘিরে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তবে এখন পর্যন্ত সিলভিয়ার অপসারণ এবং ইরানে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দুটি ঘটনাকে একই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা গেলেও একটির কারণে অন্যটি ঘটেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
সিলভিয়ার বিদায়ের পর জয়েন্ট স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা বিভাগটির দায়িত্ব কে সামলাবেন, তা এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে রয়েছে। আল জাজিরা